"

১১২ কোটি টাকা লটারি জিতেও পরের দিন নর্দমা পরিষ্কার পেশায় ক্লার্কসন





বড়দিনের সময় যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল লটারির টিকিট কিনে ১২০ পাউন্ড (প্রায় ১৮ হাজার টাকা) জিতেছিলেন জেমস ক্লার্কসন। সেই অর্থ অন্য কাজে ব্যয় না করে তিনি আবারও নিজের ভাগ্য পরখ করে দেখার সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী ন্যাশনাল লটারির আরও কয়েকটি টিকিট কেনেন ২০ বছরের এই তরুণ। এতে ভাগ্য খুলে যায় তার; জিতে যান ৭৫ লাখ ৩৩ হাজার ৩২৯ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১২ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা)।


gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
কার্লাইলের বাসিন্দা জেমস ক্লার্কসন ৫ জানুয়ারি তার এলাকায় তুষারপাত হয়েছে কিনা, তা দেখার জন্য সকালে জেগে ওঠেন , তখন তিনি তার ফোনে ন্যাশনাল লটারি থেকে এক খুদে বার্তায় দেখতে পান ৭৫ লাখ ৩৩ হাজার ৩২৯ পাউন্ড জিতেছেন। বিষয়টি প্রথমে অবিশ্বাস্য মনে হলেও পরে নিশ্চিত হন সত্যিই তিনি লটারি জিতেছেন। 


এত পরিমাণ টাকা পেয়েও ক্লার্কসনের পা মাটিতেই আছে। পরদিন সকালে তিনি যথারীতি নিজের কাজে যান। তিনি বলেন, লটারি জয়ের পরের দিন ঠান্ডার মধ্যে আমি নর্দমা পরিষ্কার করতে যাই। খানিকটা উদ্ভট শোনালেও এটাই বাস্তবতা। আমি কাজ করা বন্ধ করছি না। আমার বয়স এখনো অনেক কম। কাজের মধ্য দিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে চাই।

ক্লার্কসন একজন শিক্ষানবিশ গ্যাস ইঞ্জিনিয়ার। পাশাপাশি নর্দমা পরিষ্কারের কাজ করেন তিনি। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ভেবেছিলাম স্বপ্ন দেখছি। তখন মাত্র সাড়ে সাতটা বাজে, সবাই ঘুমাচ্ছি। আমি নিশ্চিত হতে পারছিলাম না, তাই বাবাকে ফোন দিলাম। আমি জানতাম তিনি জেগে আছেন। তিনি শান্তভাবে আমাকে বাড়িতে চলে আসতে বললেন।


বাড়িতে ফিরে বাবা, মা ও ভাইয়ের সামনে দুরুদুরু বুকে ন্যাশনাল লটারি কর্তৃপক্ষকে ফোন দেন ক্লার্কসন। তখন সকাল নয়টা, সবেমাত্র ন্যাশনাল লটারির কার্যালয় খুলেছে। তিনি বলেন, তারা প্রথমেই আমাকে লটারি জয়ের খবর নিশ্চিত করে। আমি সম্ভবত হাসতে শুরু করেছিলাম। পাগলামি মনে হয়েছিল। পুরো দিনটি আমি পরিবার এবং আমার মেয়েবন্ধুর সঙ্গে কাটিয়েছি। আমরা সবাই কাছাকাছিই থাকি, সবাই লটারি জয় নিয়েই কথা বলেছি। দ্রুত এ খবর ছড়িয়ে পড়ে। দিন শেষে দাদা-দাদির বাড়িতে আমরা এ জয় উদ্‌যাপন করি।

জেমস ক্লার্কসন বলেন, আমি একজন হিটিং ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করতে চাই এবং তারপর সেখান থেকে যেতে চাই। আমার জীবনের একটা উদ্দেশ্য থাকা দরকার, তাছাড়া বাবা আমাকে কাজ করতে দিতে চান না। আমি জানি লোকেরা হয়তো ভাবতে পারে যে, আমি এখনও কাজ করার জন্য পাগল। কিন্তু আমি চাই এবং অবশ্যই, এর মধ্যে কিছু সুন্দর ছুটি থাকবে।

সূত্র: দ্য মেট্রো
Previous Post Next Post

نموذج الاتصال